প্রিন্ট করুন ফটো কার্ডসিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৯নং আমুড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ধারাবহর এলাকায় প্রকৃতির অকৃপণ দান টিলা ও পাহাড় আজ প্রভাবশালী চক্রের লোলুপ দৃষ্টিতে ধ্বংসের মুখে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১০ কিয়ার জমির বিশাল এলাকা জুড়ে ফ্ল্যাট তৈরির নামে নির্বিচারে টিলা নিধন করা হচ্ছে। এই ধ্বংসযজ্ঞে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে, তেমনি বাড়ছে বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর এলাকায় টিলা নিধনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে রয়েছেন শরিফ আহমদ নামের এক ব্যক্তি। প্রভাব খাটিয়ে তিনি দিনের আলোয় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে টিলা সাবাড় করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভিডিওতে দৃশ্যমান এই ধ্বংসযজ্ঞ যে কেউ দেখলেই বুঝতে পারবে এটি কতটা ভয়াবহ। অথচ এই কর্মকাণ্ড বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ইউএনও (UNO) এবং এসিল্যান্ড (AC Land) অফিসের নাকের ডগায় এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ চললেও কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী শরিফ আহমদের ছত্রছায়ায় প্রশাসন কি তবে জিম্মি? কেন এখনো কোনো অভিযান পরিচালিত হলো না? নাকি প্রভাবশালীদের তাবেদারিতেই টিলা নিধনকে 'অঘোষিত ছাড়পত্র' দেওয়া হয়েছে?
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, টিলা ও পাহাড় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। এভাবে অপরিকল্পিত টিলা কাটার ফলে এলাকাটি ভূমিকম্প ও ভূমিধসের চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। এই টিলা নিধন দুর্যোগের পূর্বাভাস মাত্র, যা অদূর ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রকৃতির এই নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ রুখতে এবং শরিফ আহমদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সচেতন সমাজ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— আমরা কি তবে এমন এক চরম বিপর্যয়ের অপেক্ষায় আছি, যা কোনো প্রতিকার ছাড়াই আমাদের গ্রাস করবে? প্রকৃতি রক্ষায় এখনই প্রশাসনকে জেগে উঠতে হবে, নতুবা এই টিলা নিধনের মাশুল গুনতে হবে পুরো অঞ্চলকে।